নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে এলোপাথারি গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় নিউজিল্যান্ডে সফররত বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে আল নূর মসজিদে দিকে জুম্মার নামাজের জন্য যাচ্ছিলেন বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা। ঘটনাচক্রে সেই মসজিদেই প্রথম হামলা হয়। গুলিবর্ষণ চলাকালীন সময়ে মসজিদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ক্রিকেটাররা। তবে অজ্ঞত এক নারী সাবধানী বার্তায় মসজিদ থেকে ৫০ গজ দূরে থাকতেই ফিরে যায় তামিম-মাহমুদুল্লাহরা।

এই ঘটনাকে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সেই দেশের অন্ধকারতম দিনগুলির একটি বলেছেন। এক নারীসহ চার সন্দেহভাজন ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার পর নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশ – দুই দেশের বোর্ড শনিবার থেকে হ্যাংলে ওভালে-র নির্ধারিত তৃতীয় টেস্ট বাতিল করার সিদ্ধান্তে নিয়েছে। এর আগেও বেশ ছয়বার সন্ত্রাসবাদের কালো থাবায় বাতিল করতে হয়েছে বা খেলা হয়নি বেশ কয়েকটি ক্রিকেট ম্যাচ। তারমধ্যে রয়েছে, বিশ্বকাপের মতো হাইপ্রোফাইল ম্যাচও।

অস্ট্রেলিয়া বনাম শ্রীলঙ্কা: ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ছিল ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কায় সেইসময় গৃহযুদ্ধ চলছিল। টুর্নামেন্ট শুরুর একমাস আগেই কলম্বোয় একটি ভয়ানক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপরই নিরাপত্তার কারণে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কলম্বোয় না গিয়ে তারা থেকে যায় মুম্বাইয়ে। শ্রীলঙ্কা ২ পয়েন্ট পেয়েছিল। তবে গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে পরের রাউন্ডে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম শ্রীলঙ্কা: ১৯৯৬ একই কারণে গ্রুপের ম্যাচ খেলতে সেই বিশ্বকাপে কলম্বোয় যায়নি ক্যারিবিয়ানরাও। ফলে আরও একবার না খেলেই ২ পয়েন্ট লাভ করেছিল শ্রীলঙ্কা। অপরাজিত থেকে গ্রুপে শীর্ষে শেষ করেছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজও অবশ্য গ্রুপে চতুর্থ হয়ে নকআউটে পৌঁছেছিল। তবে সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে যায়। ফাইনালে অজিরা শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেই খেলেছিল। তবে সেই ম্যাচ হয়েছিল লাহোরে। কাপ জিতেছিল শ্রীলঙ্কা।

ইংল্যান্ড বনাম জিম্বাবুয়ে: ২০০৩ আফ্রিকা মহাদেশের ক্রিকেট বিশ্বকাপে হারারেতে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ম্যাচ খেলতে যায়নি ইংরেজ দল। প্রাণ-নাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ম্যাচ না খেলার ফলে ইংল্যান্ড ৪ পয়েন্ট হারায়, ফলে শেষ পর্যন্ত ১২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্যায় থেকেই ছিটকে গিয়েছিল। আর ১৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হয়ে সুপার সিক্স খেলতে গিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। সেই পর্যায়ে অবশ্য সব ম্যাচ হেরে যায় তারা।

নিউজিল্যান্ড বনাম কেনিয়া: ২০০৩ একই বিশ্বকাপে আরেক আয়োজক দেশ কেনিয়ার বিরুদ্ধে তাদের রাজধানী নাইরোবিতে ম্যাচ খেলতে যেতে রাজি হয়নি ব্ল্যাক-ক্যাপসরা। ম্যাচের আগেই আইসিসির নিরাপত্তা দলই জানিয়েছিল সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কা রয়েছে। নিউজিল্যান্ড দল এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, সেই মতো যথাযথ কোনও ব্যবস্থা কেনিয়া নেয়নি, তাই নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় তারা নাইরোবি যায়নি। দুই দলই গ্রুপ পর্যায়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে সুপার সিক্সে উঠেছিল। কিন্তু সেমিফাইনালে যায় কেনিয়াই। শেষ পর্যন্ত ভারতের বিরুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল।

শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান: ২০০৯ ক্রিকেট-বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল এই ঘটনা। পাক সফরে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা দল। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন সকালে যখন শ্রীলঙ্কার জাতীয় ক্রিকেট দল আসছিল, তখন পথে তাদের টিম বাসের কনভয়ের উপর হামলা চালায় ১২ জন বন্দুকধারী জঙ্গি। আহত হন শ্রীলঙ্কার ৬ ক্রিকেটার। সেই সঙ্গে ৬ পাকিস্তানি পুলিশ ও ২ অসামরিক নাগরিক নিহত হন। সঙ্গে সঙ্গেই ওই টেস্টটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের গদ্দাফি স্টেডিয়াম থেকেই হেলিকপ্টারে নিরাপদ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে তাঁরা দেশে ফেরেন।

অস্ট্রেলিয়া বনাম বাংলাদেশ: সাল ২০১৫। নয় বছরের মধ্যে এটিই ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ। কিন্তু সিরিজ শুরুর ঠিক আগেই এক ইতালিয় চ্যারিটি কর্মীকে ঢাকায় গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসবাদীরা। এরপরই এই ঘটনাকে ‘অস্ট্রেলিয় স্বার্থের পক্ষে হুমকির’ বলে উদ্ধৃতি দিয়ে, সফর বাতিল করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। টেস্টটি তরুণ অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের অধীনে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ম্যাচ ছিল।